Pages - Menu

Pages - Menu

Monday, 25 August 2014

বিল্লি নে কাট দিয়া

বিল্লি নে কাট দিয়া’। হুমায়ূন আহমেদের পাঠকেরা এই সংলাপটির সঙ্গে নিশ্চয়ই পরিচিত। অবশ্য শুধু ভারতীয় সংস্কৃতিতে নয়, কালো বিড়ালকে অপয়া ভাবা হয় বিশ্বের অনেক দেশেই। কালো বিড়ালের সঙ্গে ডাকিনিবিদ্যা আর তন্ত্রমন্ত্রের যোগসূত্র দেখিয়ে কম কল্পগল্পও হয়নি। সেই কালো বিড়াল কাল বার্সেলোনার মাঠে! সেটিও বার্সার মৌসুম শুরুর প্রথম ম্যাচের একেবারে প্রথম মিনিটে!
রেফারির খেলা শুরুর বাঁশি বাজার কয়েক সেকেন্ড পরেই খেলা থামিয়ে দিতে হয়। বার্সার নতুন গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভোর রাজ্যসীমা ডি-বক্সের ভেতরেই ঢুকে পড়েছে কালো বিড়াল! মিশমিশে কালো। হাভিয়ের মাচেরানো এসে তাড়ানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু বিড়াল বাবাজি বোধ হয় বিশ্বের কোটি চোখের কাছে নিজেকে তুলে ধরতে বেশ মজাই পাচ্ছিল। কিছুতেই মাঠ ছেড়ে বেরোবে না পণ করেছিল। শেষে মাঠকর্মীদের একজন খপাত্ করে ধরে মাঠের বাইরে নিয়ে যায় বিড়ালটাকে। গায়ে মোচড়-টোচড় দিয়ে বিড়ালটি প্রতিবাদও জানাচ্ছিল। হাতের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে পেতে এক্কেবারে মাঠের বাইরে।
স্পেনেও কালো বিড়াল অপয়া হিসেবেই দেখা হয়। এবং কী অবাক করা ব্যাপার, মৌসুমের প্রথম গোলটা পেতে হন্যে হয়ে থাকা বার্সাকে দুই দুবার আটকাল গোলপোস্ট। প্রথমে বার্সার নতুন বিস্ময়-বালক মুনির এল হেদাদির, এরপর ইনিয়েস্তার শট লেগে ফিরল।
লিওনেল মেসি দুর্দান্ত গোল করে সেই অপয়া ভূতটা তাড়িয়েছেন কি তাড়াননি, এমন সময় প্রথমার্ধেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলা মাচেরানো। এই মাচেরানোই কিন্তু বিড়ালটিকে প্রথম তাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন! তবে কি বিড়ালেরই অভিশাপ?
বিজ্ঞানমনস্ক মনও কিন্তু প্রিয়জনের বিপদে সংস্কারগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বার্সা কিছুতেই গোলের দেখা পাচ্ছিল না যখন, সমর্থকদের মনে কালো বিড়ালের ছায়া উঁকি না দিয়ে যায়নি। অবশ্য সমর্থকেরা প্রত্যাশা করবে, অভিশাপটা মাচেরানোর এক লাল কার্ডের ওপর দিয়ে চলে গেলেই ভালো। প্রথম ম্যাচটা বার্সা যেমন ১০ জনের দল নিয়েও ৩-০ গোলের দাপুটে জয় দিয়ে শুরু করেছে, সেই ধারা যেন বজায় থাকে পুরো মৌসুমে।
ভয়ের কথা হলো, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ন্যু ক্যাম্পেও একটি কালো বিড়াল ঢুকে পড়েছিল। সেদিন রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ম্যাচটা জিতলেও ২০১১-১২ মৌসুমে কিন্তু লিগ শিরোপা জেতা হয়নি বার্সার!

No comments:

Post a Comment